ওয়েবডেস্ক। ৭ জুন
ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চলমান উত্তেজনার আবহে ফের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে আলোচনা সফল না হলেও আমেরিকার অবস্থান দুর্বল হবে না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছি। আর যদি চুক্তি না-ও হয়, তাহলেও এক বা অন্যভাবে বিষয়টির সমাধান হবে। যে পথেই যাই না কেন, শেষ পর্যন্ত জিতব আমরাই।’ ট্রা ম্প বলেন, হরমুজে ইরান অবরোধ তৈরি করেছিল। এর পাল্টা আমরাও অবরোধ তৈরি করি। এর ফলে ইরানকে প্রতিদিন ৪-৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের কাছে চুক্তি করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। তাঁর এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও পিছপা হবে না ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ইরানের নেতৃত্ব আলোচনায় আগ্রহী হলেও এখনও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছনো যায়নি। তাঁর দাবি, ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড় এবং জাতীয় গৌরবের প্রশ্নে সহজে ছাড় দিতে চাইছে না। তবে শেষ পর্যন্ত তেহরানকে বাস্তব পরিস্থিতি মেনে চলতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। এবার বিদেশে থাকা ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ব্যবহার করে তেহরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মিত্র দেশগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউস সূত্রে এমনই দাবি সামনে এসেছে।
জানা গিয়েছে, ইরানের হামলার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মিত্র রাষ্ট্রের কতটা আর্থিক ও পরিকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে। একই সঙ্গে ইরানের জব্দ হওয়া বিদেশি সম্পদ থেকে সেই ক্ষতিপূরণের অর্থ মেটানো সম্ভব কি না, তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতির সূচনার পর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের বিপুল সম্পদ আটকে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় সেই সম্পদ ফেরত পাওয়ার দাবিতে অনড় তেহরান। ফলে ওয়াশিংটনের নতুন ভাবনা শান্তি আলোচনার পথ আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

error: Content is protected !!