ওয়েবডেস্ক। ৭ জুন
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের রাজনীতি হিন্দু-মুসলিম ইস্যুকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু এই ধরনের রাজনীতি কর্মসংস্থানের কোনও সমাধান দিতে পারে না। বরং সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বেকারত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার মোকাবিলা করা। এমনই মন্তব্য করলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দেন দীপকে। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে সরানো না হলে অথবা তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।
রবিবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিজেপি প্রধান বলেন, গত ১০ থেকে ১২ বছরে দেশের রাজনীতি হিন্দু-মুসলিম এজেন্ডার দিকে সরে গিয়েছে। কিন্তু এই ইস্যু চাকরি দিতে পারে না। দেশের উন্নয়নের জন্য সরকারের অগ্রাধিকার বদলানো জরুরি। তিনি জানান, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের জন্য একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার প্রশ্নই নয়, কর্মসংস্থানও দেশের অন্যতম বড় সমস্যা। সেই লড়াইও চলবে।
দীপকে শনিবার যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছাত্র-যুব সমাজের ক্ষোভই সেখানে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
দীপকে বলেন, যাঁরা বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন তাঁদের অনেকেই আগে কখনও কোনও আন্দোলনে অংশ নেননি। কিন্তু সম্মিলিত উপস্থিতি তাঁদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করার সাহস জুগিয়েছে। তীব্র গরম উপেক্ষা করে আন্দোলনে যোগ দেওয়া ছাত্রছাত্রী, শিশু এবং সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তাঁর কথায়, মানুষের দাবি ও ক্ষোভ প্রকাশ না পেলে পরিবর্তন সম্ভব নয়। সেই কারণেই আন্দোলন এখানেই থেমে থাকবে না। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়ে দীপকে অভিযোগ করেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যার কারণে একটি পুরো প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, সাত দিনের মধ্যে কোনও পদক্ষেপ না হলে তাঁদের আন্দোলন আরও বিস্তৃত আকারে রাস্তায় নেমে চলবে।
তবে আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পথেই পরিচালিত হবে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ঐক্যবদ্ধ ও অহিংস আন্দোলনকে উপেক্ষা করা সরকারের পক্ষে সহজ হবে না। তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলন শুধুমাত্র একটি দিনের প্রতিবাদ নয়, বরং বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা। তাঁর কথায়, দেশের যুবসমাজ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যায় ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভই যন্তর মন্তরের জমায়েতে প্রতিফলিত হয়েছে।

error: Content is protected !!