ওয়েবডেস্ক। ১০ জুন
পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে বৃহৎ আকারের হামলা চালিয়েছে ইরান। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা অন্তত ২১টি মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে তেহরান। এর জেরে বাহরিন, জর্ডন ও কুয়েত-সহ একাধিক দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর দাবি, তাদের মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র শাখা দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে জর্ডনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। হামলার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিমান রাখার পরিকাঠামো এবং সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। ইরানের বক্তব্য, সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাহরিনে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। জর্ডনের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। কুয়েতও জানিয়েছে, অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এদিকে সংঘাতে নতুন করে জড়িয়ে পড়েছে লেবাননও। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লা দক্ষিণ লেবানন থেকে ইজরায়েলি সামরিক অবস্থানের বিরুদ্ধে ড্রোন, রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। সীমান্তবর্তী একাধিক এলাকায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, দেশের বিরুদ্ধে কোনও হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়া হবে না। তিনি বলেন, বিদেশি সেনাবাহিনী যদি নিরাপদ থাকতে চায়, তবে তাদের এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়াই শ্রেয়। অন্যদিকে, ইসলামিক রিভলিউশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে বাহরিনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, সংঘর্ষ এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ চলতে থাকলে আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত সোমবারের একটি ঘটনার পর। হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনার একটি যুদ্ধ হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ঘটনায় ওয়াশিংটন ইরানকে দায়ী করে। এরপর ইরানের সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। তেহরান তখনই কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
সেই হুঁশিয়ারির পরই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলা শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্রমশ বিস্তৃত হওয়া এই সংঘাত গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

error: Content is protected !!