ওয়েবডেস্ক। ২৯ এপ্রিল
ব্যস্ততম বাণিজ্যকেন্দ্র কাবুগঞ্জ বাজারে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে বিস্ফোরক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক বছর আগে ৩০৬ নং শিলচর-আইজল জাতীয় সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও আজও প্রকল্পের বড় অংশ অসম্পূর্ণ পড়ে রয়েছে। অভিযোগ, এনএইচআইডিসিএল-এর অধীন ঠিকাদার সংস্থা জন্ডু কনস্ট্রাকশন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ অর্ধসমাপ্ত রেখেই কার্যত এলাকা ছেড়ে দিয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারজুড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। সরেজমিনে দেখা গেছে, জাতীয় সড়কের পশ্চিম পাশে কিছু অংশে ড্রেন নির্মাণ শেষের দিকে পৌঁছালেও পূর্ব পাশের বহু অংশে কাজ সম্পূর্ণ থমকে রয়েছে। কয়েক মিটার অন্তর ড্রেন অসম্পূর্ণ থাকায় কোথাও জল নামার পথ নেই, কোথাও আবার খোলা গর্ত বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে সামান্য বর্ষণেই রাস্তাঘাট জলে ডুবে বাজার এলাকায় নিত্যদিনের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে। শুধু কাজের ধীরগতি নয়, শুরু থেকেই নির্মাণের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, শক্তপোক্ত ড্রেন নির্মাণের পরিবর্তে অতি পাতলা জালি ও মাত্র ৮ এমএম রড ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সম্পূর্ণ অটেকসই। বিগত বছরও এই নিম্নমানের কাজ নিয়ে একাধিকবার প্রতিবাদ জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রঞ্জিত নাথ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঠিকাদার সংস্থা বাজারের বহু বাড়ি ও দোকানের সামনে বড় বড় গর্ত খুঁড়ে মাটি সরিয়ে নেয়। কিন্তু পরে সেই অংশের অধিকাংশ জায়গায় কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যায়। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, পাশাপাশি প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যুতের খুঁটি সরানো কিংবা উচ্ছেদ জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হলেও প্রকৃত সমস্যা ঠিকাদারি সংস্থার গাফিলতি, অব্যবস্থাপনা এবং নিম্নমানের নির্মাণ। কাবুগঞ্জ মধ্য বাজার এলাকাতেও একইভাবে অসমাপ্ত ড্রেন, এলোমেলো খোঁড়াখুঁড়ি ও নোংরা জল জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ একাংশ স্থানীয় মানুষের সাফ বক্তব্য, এই প্রকল্পে কী পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, কী মানের সামগ্রী ব্যবহারের কথা ছিল এবং কেন কাজ এতদিনেও শেষ হল না— তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মে জড়িত ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

error: Content is protected !!